লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইরান ও তার লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা
করে বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আলোচনায় লেবাননকে দাবার ঘুঁটি বা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এটিই প্রেসিডেন্ট আউনের এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানান, ইরানের নিজস্ব স্বার্থের কারণে লেবাননের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এবং ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই অন্তহীন যুদ্ধে লেবাননের মানুষ এখন পুরোপুরি ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনায় লেবাননকে এভাবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যখন মার্কিন ও ইসরাইলি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ তিন মাসেরও বেশি সময় আগে এই সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল। ১৯৮২ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দ্বারা গঠিত শিয়া মুসলিম সংগঠন হিজবুল্লাহর এই যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই ভালোভাবে নেয়নি লেবাননের অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো। লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতার বণ্টন নীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আউন একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান এবং দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার আগে তিনি লেবানন সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত বছর দেশটির পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি হিজবুল্লাহকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন এবং এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা হিজবুল্লাহর ঘোষিত নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
চলমান এই আঞ্চলিক সংকটে ইরান শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। এদিকে, ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানিজ ও ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা চুক্তি হলেও গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হিজবুল্লাহ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, যার মূল শর্ত ছিল হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে হবে এবং তাদের যোদ্ধাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটনের ওই চুক্তিটি লেবাননের জনগণের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে, যার জবাবে প্রেসিডেন্ট আউন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, লেবাননের সাধারণ মানুষ আপনার নিজস্ব জনগণ নয়।
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে।
এসআর