[email protected] বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৬ ১১:৪৮ এএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করছে।


মঙ্গলবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জানায়, সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্তে কিছু দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাকি ৪৫টি দেশের জন্য প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ব্যর্থতা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি করছে।


এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সময় জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা কিছু শুল্ক বাতিল করে দেয়। ফলে নতুন আইনি ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।


তবে সব ধরনের পণ্য এই শুল্কের আওতায় আসবে না। প্রস্তাবনায় জ্বালানি পণ্য, বিরল খনিজ, নির্দিষ্ট ধাতু, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক, বিমানযন্ত্রাংশ, কফি, গরুর মাংস এবং কিছু কৃষিপণ্যকে শুল্কমুক্ত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ছাড়া পোশাক ও বস্ত্রখাতের জন্য পৃথক সুবিধা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।


মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই একটি উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করা হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের মতামত তুলে ধরতে পারবে।


বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য ছাড়-সুবিধা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর