[email protected] সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কফি এনেমা’ কোনো চিকিৎসা নয়, এটি ডিটক্সিফিকেশনের উপায়: ডা. জাহাঙ্গীর কবির

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

‘কফি এনেমা’ পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসক সমাজের তীব্র সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার

 করেছেন লাইফস্টাইল মডিফায়ার ডা. জাহাঙ্গীর কবির। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, কফি এনেমা কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান দূর বা ডিটক্সিফিকেশনের একটি সহায়ক মাধ্যম মাত্র।

​এই ধারণার উৎস সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জাপানি সার্জন ডা. হিরোমি সিনিয়ার বইয়ের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯২০ সাল থেকেই বিজ্ঞানীরা বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ করেছেন। কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস্ট্রিকের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার মূল কারণ হিসেবে পেটে জমে থাকা টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থকে দায়ী করে তিনি জানান, সাধারণ উপায়ে এগুলো বের না হলে কফি এনেমা সাহায্য করতে পারে।

​কফি এনেমার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, এর কিছু অংশ পোর্টাল ভেইনের মাধ্যমে সরাসরি লিভারের বাইল ডাক্টে পৌঁছে লিভারকে ডিটক্স করতে সহায়তা করে। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মূলত কেস স্টাডির ওপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে তারা নিজেরাও এ বিষয়ে একটি সিরিজ কেস স্টাডি প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন।

​এফডিএ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ব্যবহারের আগে ব্যবহারকারীর পাইলস বা রক্তপাতের মতো কোনো সমস্যা আছে কি না তা দেখা উচিত। এছাড়া অর্গানিক কফি বিন ব্যবহার করা, কফির সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা এড়াতে ডাবের পানি বা পিঙ্ক সল্ট খাওয়ার মতো সতর্কতার কথাও জানান তিনি।

​সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি কলোনোস্কপির প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর তুলনা টেনে বলেন, ছুরি দিয়ে যেমন মানুষ খুন ও জীবন বাঁচানো উভয়ই সম্ভব, তেমনি প্রতিটি জিনিসেরই ভালো-খারাপ দিক রয়েছে। রোগীরা নিজ দায়িত্বে ও নিজেদের শরীরের লক্ষণ বুঝে এটি করেন দাবি করে তিনি বলেন, মানুষ উপকার পাচ্ছে বলেই এই পদ্ধতি চালু রেখেছে এবং এক্ষেত্রে আইনি কোনো জটিলতা নেই।

এসআর

সম্পর্কিত খবর