[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রস্রাবের ৫ পরিবর্তন, যেগুলো মূত্রতন্ত্রের ক্যানসারের সতর্কসংকেত হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:১২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

শরীরে দেখা দেওয়া অনেক ছোটখাটো পরিবর্তন আমরা সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করি।

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ, রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়া কিংবা তলপেট ও কোমরে ব্যথার মতো উপসর্গও অনেক সময় গুরুত্ব পায় না। তবে এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষণ মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি ক্যানসারেরও সংকেত হতে পারে।

 

যে ৫টি পরিবর্তনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের ক্ষেত্রে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

 

১. প্রস্রাবে রক্ত: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো ব্যথা ছাড়াই রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

২. ঘন ঘন প্রস্রাব: স্বাভাবিকের তুলনায় বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যেতে হলে এর কারণ খুঁজে দেখা দরকার।

 

৩. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া: প্রস্রাবের সময় নিয়মিত জ্বালাপোড়া হলে সেটিকে দীর্ঘদিন সাধারণ সংক্রমণ ভেবে ফেলে রাখা ঠিক নয়। এর পেছনে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

 

৪. প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া বা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা: প্রস্রাবের প্রবাহ আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

 

৫. প্রস্রাবের পরও চাপ অনুভূত হওয়া: প্রস্রাব করার পরও পুরোপুরি খালি হয়নি বলে মনে হওয়া বা বারবার প্রস্রাবের তাগিদ অনুভূত হওয়াও নজরে রাখা দরকার। এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী তলপেটের অস্বস্তি কিংবা কোমরের নিচের অংশে ব্যথা থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

 

কেন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনিল থাকওয়ানির মতে, অনেকেই বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এসব উপসর্গ এড়িয়ে যান। তবে দীর্ঘস্থায়ী কিছু উপসর্গ মূত্রতন্ত্রের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

 

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। সংক্রমণসহ আরও অনেক সাধারণ কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গের কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

কারা বেশি ঝুঁকিতে

বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মূত্রাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

 

প্রস্রাবের স্বাভাবিক ধরনে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এসআর

সম্পর্কিত খবর