[email protected] বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা হবে বিনামূল্যে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬ ৭:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের সব নাগরিকের জন্য প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

একই সঙ্গে তিনি অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকারের গুরুত্বারোপের কথা বলেন।


বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনানী আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আগড্যাব)।


মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করতে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসকদেরও যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


তিনি উল্লেখ করেন, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতাসংক্রান্ত সমস্যায় রয়েছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।


ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট, রেডিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষায়িত মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে। বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা ব্যয় বহন করবেন, আর অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। চিকিৎসার অভাবে কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।


মন্ত্রী আরও জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, কর্মরত কোনো ব্যক্তি যেন ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে এসব চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ানো সম্ভব।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নগরীর আরবান হেলথ কেয়ার সেন্টারগুলোতে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক সেবা চালুর দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর