[email protected] রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
২১ আষাঢ় ১৪৩৩

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬ ৯:০৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নতুন করে ১০৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৪৫ শিশু।

এছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ জন। ফলে এ সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৯২৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ের মধ্যে দেশে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩২ জনে।

এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৫ হাজার ১২২ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যেসব সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন এবং সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।

তাদের মতে, এখনো সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ না হওয়ায় উপজেলা থেকে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকেরা সমন্বিত চিকিৎসা নির্দেশনা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে নিয়মিত ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিট না হওয়ায় একই ধরনের ত্রুটি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কেবল আইসিইউর সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; দক্ষ জনবল ছাড়া আইসিইউ কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়।

তিনি শিশুদের জন্য বিদ্যমান আইসিইউগুলো আরও উপযোগী করা, অক্সিজেন সাপোর্ট সহজলভ্য করা এবং উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত রোগ শনাক্ত, অক্সিজেন থেরাপি ও কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁর মতে, আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার আগেই কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর