[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুখের ঘা: সাধারণ সমস্যা নাকি গুরুতর অসুস্থতার পূর্বাভাস?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬ ৯:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মুখের ভেতরে ছোট ছোট ক্ষত বা ঘা অনেকের কাছেই পরিচিত একটি সমস্যা।

দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি খাওয়া, কথা বলা এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষ ভিটামিনের ঘাটতিকেই এর প্রধান কারণ মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, মুখের ঘা হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিল রোগের লক্ষণও হতে পারে।

 

মুখে ঘা হওয়ার সাধারণ কারণ

 

মুখের ঘা বিভিন্ন শারীরিক ও জীবনযাপনজনিত কারণে দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মুখের ভেতরে আঘাত পাওয়া। অসাবধানতাবশত জিভ বা গালে কামড় লাগা, শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা, অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া কিংবা দাঁতের ব্রেস বা কৃত্রিম দাঁতের ঘর্ষণ থেকেও ক্ষত তৈরি হতে পারে।

 

এ ছাড়া শরীরে ভিটামিন বি-১২, ফোলেট বা আয়রনের ঘাটতি থাকলেও বারবার মুখে ঘা হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিছু ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণও এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

 

মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের সঙ্গেও মুখের ঘা হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

 

কখন উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন?

সাধারণত মুখের ঘা এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

 

দীর্ঘদিন ধরে না সারা ক্ষত, মুখের ভেতরে সাদা বা লালচে দাগ, কিংবা অস্বাভাবিক পরিবর্তন কখনো কখনো মুখগহ্বরের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি কিছু অটোইমিউন রোগ এবং পরিপাকতন্ত্র-সম্পর্কিত রোগেও বারবার মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘন ঘন একই সমস্যা হলে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

 

যেসব লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন

নিচের পরিস্থিতিগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত—

  • মুখের ঘা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
  • ক্ষতের আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় হলে
  • ঘায়ের সঙ্গে জ্বর বা শরীরের অন্য উপসর্গ দেখা দিলে
  • মুখের ভেতরে শক্ত গুটি বা পিণ্ড অনুভূত হলে
  • নিয়মিত ঘা ফিরে এলে।

প্রতিরোধ ও করণীয়

মুখের ঘা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

 

মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নরম ব্রাশ ব্যবহার করা এবং নিয়মিত দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেওয়াও জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল, টক বা লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চললে অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।

 

ব্যথা উপশমে অনেকেই কুসুম গরম লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করেন। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হওয়া সমস্যার ক্ষেত্রে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

 

সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ

মুখের ঘা অধিকাংশ সময় ক্ষণস্থায়ী ও নিরীহ হলেও বারবার দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। শরীরের ভেতরের কোনো পুষ্টিগত ঘাটতি বা স্বাস্থ্যসমস্যার সংকেতও হতে পারে এটি। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর