[email protected] শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৪৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার

রাজধানীতে অবৈধ সিসা বার নিয়ন্ত্রণে শরীফ আল জাওয়াদ

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬ ১:৩২ এএম

ছবি: জাওয়াদের সিসা বারে উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম

★ ডিএনসির অভিযানে শিসা ও গাঁজাসহ আটক ৫

দিন দিন মাদকের ভয়াবহ ছোবলে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে শিক্ষার্থীসহ দেশের তরুণ সমাজ। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ শিসা বারগুলো তরুণদের মাদকাসক্তির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় অবৈধ শিসা বার এবং মাদক নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের ধারাবাহিক অভিযানে বনানীর কড়াইল বস্তি ও খিলক্ষেত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ শিসা সামগ্রী, হুক্কা সরঞ্জাম এবং ১৮ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাঁচজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হলেও একটি শিসা বারের মূলহোতা শরীফ আল জাওয়াদ এখনো পলাতক রয়েছেন।

কড়াইল বস্তিতে শিসা তৈরির গোপন আস্তানাঃ

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২১ মে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির বিটিসিএল কলোনিতে অভিযান চালায়।

অভিযানে কল্যাণ-১৫ নম্বর টিনশেড বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ কেজি অবৈধ শিসা, ৩৪টি হুক্কা সেট, ৭৪টি মাটির কল্কি এবং ৪ কেজি কয়লা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

তদন্তে জানা যায়, বনানী ১১ নম্বর রোডের আনজারা বিল্ডিংয়ের প্রথম তলায় অবস্থিত এক্সোটিক
লাউঞ্জ নামের শিসা বারের মালিক শরীফ আল জাওয়াদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কড়াইল বস্তির ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে শিসা ও হুক্কা প্রস্তুত করে কৌশলে লাউঞ্জে সরবরাহ করা হতো।

ডিএনসির দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে চক্রটি চাপে পড়ে কড়াইল বস্তিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।

এ ঘটনায় বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম (৫৫) ও শাহীন রাড়ী (১৯) নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এক্সোটিক লাউঞ্জটির মালিক ও মূলহোতা শরীফ আল জাওয়াদ এখনও পলাতক রয়েছেন।

খিলক্ষেতে বাসে অভিযান, উদ্ধার ১৮ কেজি গাঁজা

অন্যদিকে খিলক্ষেত এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে ডিএনসির গুলশান সার্কেল।

পরিদর্শক মো. এমদাদুল হক খানের নেতৃত্বে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের রাজউক ট্রেড সেন্টার শপিং মলের সামনে গাজীপুরগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে এসব গাঁজা জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৬), ইরান মিয়া (৪৫), মো. ইয়াছিন (৩৯) এবং মোছা. আলেয়া বেগম (৪০)।

পৃথক মামলা দায়ের

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, কড়াইল বস্তিতে শিসা উদ্ধারের ঘটনায় বনানী থানায় এবং খিলক্ষেতে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শরীফ আল জাওয়াদ পুরো আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ের (বুশরা)  জামাই জাওয়াদের সাথে সখ্যতা গড়ে তিনি দীর্ঘদিন তার সিসাবারের রমরমা ব্যবসা চালিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে শরীফ আল জাওয়াদ এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছবি কিংবা যোগাযোগ করে নিজেকে বিএনপির সমর্থক বলে দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  

এ বিষয়ে ডিএনসির উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন,
“ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা মোতাবেক গুলশান-বনানী এলাকায় অবৈধ শিসা বার সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্যে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, অভিজাত এলাকার এই অবৈধ শিসা সংস্কৃতির সমূকূল উৎপাটনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর