বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় জুটি দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির নতুন ছবি ‘দেশু ৭’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কাল্পনিক এলাকা সীমান্তপুরকে ঘিরে। সেখানে চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রভাব রয়েছে।
এক সন্ত্রাসী হামলায় কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা দেবাদিত্য অধিকারীকে। দেব অভিনীত এই চরিত্রকে বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কারাগার থেকে বের করে আনা হয়।
অভিযানে নেমে দেবাদিত্যর সামনে আসে অপরাধজগতের প্রভাবশালী দুই ভাই অনুজয় ও রণজয় চৌধুরী। তাদের পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার অতীতের প্রেমের সম্পর্কও। বড় ভাইয়ের স্ত্রী চিকিৎসক শুভস্মিতা একসময় দেবাদিত্যর প্রেমিকা ছিলেন। ফলে দায়িত্ব পালনের কঠিন বাস্তবতা ও পুরোনো সম্পর্কের আবেগ—দুইয়ের মধ্যে পড়ে যায় ছবির প্রধান চরিত্র।
অ্যাকশন ও আবেগের মিশ্রণ
প্রায় দুই ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের এই ছবিতে রহস্য, সংঘর্ষ, রোমান্স ও আবেগকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। দেব এবার পরিচিত অভিনয়ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর পাশাপাশি শুভশ্রী ও অনির্বাণ ভট্টাচার্যের অভিনয়ও ছবির গুরুত্বপূর্ণ দিক।
পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছেন দেব। রোহিত, সৌম্য, সম্রাট শর্মা ও দেবের যৌথ চিত্রনাট্যে গল্পকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবির আবহসংগীত তৈরি করেছেন রথিজিৎ ভট্টাচার্য। অ্যাকশন দৃশ্যের সঙ্গে সংগীতের ব্যবহার সিনেমার উত্তেজনা বাড়িয়েছে। স্যাভি ও নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে তৈরি গানগুলোর মধ্যে ‘নাচে রে বাংলা’ ও ‘ইলিশ চন্দনা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শুভঙ্কর ভড়ের চিত্রগ্রহণ এবং মোহাম্মদ কালামের সম্পাদনাও ছবির উপস্থাপনায় ভূমিকা রেখেছে। আইটেম গানে ইধিকা পালের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়তে পারে।
অনির্বাণের অভিনয়ে বাড়তি মাত্রা
ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গেছে। যমজ দুই ভাইয়ের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় কাহিনিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে দেব ও শুভশ্রীর পর্দার বোঝাপড়া দীর্ঘ বিরতির পরও সাবলীল মনে হয়েছে।
এ ছাড়া প্রদীপ ভট্টাচার্য, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক, পার্থসারথি চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত, লোকনাথ দে, সৌম্য সেনগুপ্ত ও প্রিয়াঙ্কা সরকারসহ অন্য অভিনয়শিল্পীরাও বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন।
কিছু জায়গায় প্রশ্ন থাকলেও বিনোদনের ঘাটতি নেই
ছবির কয়েকটি চরিত্রকে আরও বেশি সময় দেওয়া যেত বলে মনে হতে পারে। পাশাপাশি দেবাদিত্যর কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার প্রেক্ষাপট এবং কিছু দৃশ্যের যৌক্তিকতা নিয়েও দর্শকের মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তবে এসব সীমাবদ্ধতা অ্যাকশন ও আবেগনির্ভর গল্পের সামগ্রিক আকর্ষণকে খুব বেশি কমিয়ে দেয় না। সব মিলিয়ে ‘দেশু ৭’ এমন একটি বাণিজ্যিক সিনেমা, যেখানে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের গল্পের পাশাপাশি পুরোনো প্রেম, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও তারকাদের অভিনয় দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।
এসআর