প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেতা ও মডেল জাহের আলভী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া পোস্টে আলভী স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তার কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ইকরাকে হারানোর পরও কেন তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন, তা নিয়ে মানুষের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
পোস্টে অভিনেতা জানান, স্ত্রীকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই তাকে দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কাজ করা, পরিবারের দায়িত্ব পালন এবং একমাত্র সন্তান রিযিককে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। তার মতে, প্রিয়জনকে হারানোর পরও জীবন থেমে থাকে না, বিশেষ করে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
ইকরার মৃত্যুর পর তাকে ঘিরে বিভিন্ন মানুষের মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলভী। তার বক্তব্য, ইকরা জীবিত থাকাকালে যারা তাদের সংসারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাদের অনেককেই এখন এ ঘটনা নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।
স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন অভিনেতা। তিনি জানান, ইকরাকে হারানোর পর নিজের পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলানোর চেষ্টা করছেন। সন্তানকে সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
পোস্টে আলভী আরও জানান, নামাজের সময় দোয়ায় স্ত্রীকে স্মরণ করেন তিনি। সন্তানের মা হিসেবে ইকরা তার স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন। স্ত্রীর প্রতি অভিমান থাকলেও তার জন্য ভালোবাসা ও দোয়া অব্যাহত রাখার কথা জানান অভিনেতা।
ইকরার মৃত্যু ও মামলার প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন জাহের আলভী।
আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন তাদের বিয়ের বিষয়টি ব্যক্তিগত থাকলেও ২০২৪ সালে তা প্রকাশ্যে আসে। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান রিযিক।
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আলভী। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর ৩ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি।
এসআর