ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান বাঁধন।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যায়িত করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন তিনি।
হামলার পর ভেনিসে কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁধন জানান, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরের পরিচালক, ইতালি সরকার, বাংলাদেশ সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।
তবে নিজের সিনেমার টিমের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বাঁধনের ভাষ্য, হামলার পর উৎসবের বাকি দিনগুলোতে টিমের সদস্যদের সঙ্গে অংশ নিতে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাকে নিষেধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সহশিল্পীদের কয়েকজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাঁধন। তার ভাষ্য, সহশিল্পী সুনেরাহ, জায়নিন এবং জায়নিনের মা ওই সময়ে তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।
হামলার পর নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ঘটনার রাতেই বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। পাশাপাশি ইতালি সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরের পরিচালক তাকে লিডো এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও জানান বাঁধন।
দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা ভুলে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সাধারণ মানুষ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আজীবন মনে রাখবেন বলে জানান অভিনেত্রী।
গরমের মধ্যেও বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে যারা অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন।
এর আগে বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এসআর