[email protected] রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন শিক্ষাবর্ষে বইয়ের পাশাপাশি পোশাক-জুতা-ব্যাগ পাবে প্রাথমিকের শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৮:৫৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুলের পোশাক, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্কুল ড্রেসের জন্য ৬০০ টাকা, ব্যাগের জন্য ৬০০ টাকা, জুতার জন্য ৭০০ টাকা এবং মোজার জন্য ৫০ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় এসব উপকরণ কেনার প্রকৃত খরচ আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

 

রোববার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ পরিকল্পনার কথা জানান।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীপ্রতি ১ হাজার ৯৫০ টাকা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)-এর আওতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি এবং বিদেশি সহায়তা ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা।

 

স্কুলের পোশাকের রং, কাপড়ের মান এবং বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী মাপ নির্ধারণে বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই লাখ ইউনিফর্ম দিয়েছে। পাশাপাশি বাটা ও অ্যাপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ হাজার জুতা সরবরাহ করেছে।

 

এ ছাড়া দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে একজন কর্মীর মাসিক বেতন সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাঁচ বছরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পেছনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, ছোট শিশুদের পক্ষে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা সব সময় বজায় রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে শৌচাগার ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। শিক্ষকদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানো কিংবা শিক্ষার্থীদের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

পিইডিপি-৫ প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুরুতে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল। বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা ও পুনর্বিন্যাস করে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। গত জুনে পিইডিপি-৪ শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা করা হয়।

 

বছরের শুরুতে বই, পরে অন্যান্য উপকরণ

প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার ফল আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশের সময় পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ফলাফল সংগ্রহ করতে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নতুন শ্রেণির বই নিতে পারবেন।

 

তবে প্রথম বছরেই বইয়ের সঙ্গে পোশাক, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় মাপ ও মান নিশ্চিত করে এসব উপকরণ প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। তাই তাড়াহুড়া না করে মানসম্মত সামগ্রী সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বছরগুলোতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব উপকরণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

 

সম্প্রসারণ হবে স্কুলের খাবার কর্মসূচি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রমও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৫০টি বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিদ্যালয়েও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এ কর্মসূচিতে রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং কুপনের মাধ্যমে খাবার দেওয়ার দুটি পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে। দেশব্যাপী চালুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে দুই পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের খাবার দেওয়া নয়, বরং তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা। বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা খাবারের মাধ্যমে দৈনিক পুষ্টির চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, চর্বি ও শর্করার চাহিদা বিবেচনায় খাবারের তালিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রান্না করা খাবারের তালিকায় স্থানীয় শাকসবজি, মাছ, মাংস ও ডিম রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর