সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রক্টর কার্যালয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাকিব ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিলের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। বিষয়টি নিয়ে সাকিব ও শাকিলের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী আইসিটি বিভাগে গেলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে শাকিলকে ধাওয়া করা হলে তিনি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে আশ্রয় নেন। পরে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও জড়িয়ে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত দুজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং একজনের হাত ভেঙে যায়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি শেষে শহরমুখী বাসও আটকে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমএম শরিফুল করিম বলেন, লাইব্রেরিতে বসাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসাও করা হয়। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে গিয়ে আবার উত্তেজনা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এসআর