স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করার আগেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস)
নিয়োগ পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১০ শিক্ষার্থী।
তাদের মধ্যে চারজন মেধাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও ত্রয়োদশ স্থান অর্জন করেছেন। স্নাতক শেষ করেই সরাসরি বিচার বিভাগে প্রবেশের এই বিরল সাফল্য তাদের অ্যাকাডেমিক ও পেশাগত জীবনের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এক অর্জন।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে তারা সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
সুপারিশপ্রাপ্ত ১০ শিক্ষার্থী হলেন—মো. হানিফ মিয়া (৪র্থ), সৈয়দা শাওলিন আক্তার আলো (৫ম), মোহিউদ্দিন (৬ষ্ঠ), পারভেজ রহমান (১৩তম), ফজলে রুহানি, মো. আইনুল হক, মাহিয়া মারিয়াম, নাফিউল ফয়সাল পৃথুল, সুরাইয়া কবির ও এস এম বাকিবিল্লাহ।
ঢাবির আইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীরা বর্তমানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ে অধ্যয়নরত। স্নাতক শেষ করার পর প্রথমবারের মতো বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তারা প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপেই কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখানো সৈয়দা শাওলিন আক্তার আলো বিচার বিভাগের পরীক্ষায়ও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৬তম স্থান অর্জন করা আলো এবার বিজেএস মেধাতালিকায় পঞ্চম হয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শাওলিন বলেন, “আমি কোচিংয়ে ক্লাস শেষ করে হলে আসি। হলে এসে শুনি কিছুক্ষণের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দেবে। ভয় পেয়ে অজু করে আসি, তারপর পিডিএফ ফাইল খুলে ৫ নম্বর ক্রমিকে নিজের রোল দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে চোখের পানি চলে আসে এবং আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে বাবা-মা ও ভাইকে কল দিই।”
প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, “ঢাবির আইন বিভাগে কোনো শর্টকাটের সুযোগ নেই; প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। যেহেতু মাস্টার্স রানিং ছিল, তাই ক্লাস, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্ট সামলেই অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক গ্রুপ স্টাডি না থাকলেও আমরা বন্ধুরা পরস্পরকে পড়াশোনায় সব ধরনের সাহায্য করেছি।”
অন্যদিকে, একই ব্যাচ থেকে ১০৩তম মেধাস্থান অর্জন করা নাফিউল ফয়সাল পৃথুল নিজের পরিবারের আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন।
পৃথুল বলেন, “পরিবারের এত উচ্ছ্বাস দেখে আমি অভিভূত। রেজাল্ট পুরোপুরি রিজিকের বিষয়—এই বিশ্বাস আমার ছিল। তবে আমার মাধ্যমে পুরো পরিবার এত বড় আনন্দের উপলক্ষ পেয়েছে, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য। আলহামদুলিল্লাহ।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই ১০ শিক্ষার্থীর সাফল্য তাদের শিক্ষা জীবনের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে, যা তাদের জুনিয়র ও সহপাঠীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
এসআর