[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবিতে ফুটবল ম্যাচ ঘিরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৯

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে দুই বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে ম্যাচ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলিফ খান, আলিফ রাহাত, ইয়াসিন আরাফাত, তোফাজ্জল চৌধুরী ও সিয়াম খন্দকার এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আবু রায়হান রয়েছেন। অপরদিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সোহাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হিমেল এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ূন কবির আহত হয়েছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যাচের শেষ দিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এ সময় বল মাঠের বাইরে চলে গেলে সেটি ফেরত দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে দর্শকসারি থেকে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।

 

পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী লাঠি, বাঁশ ও গাছের ডাল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

 

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল অভিযোগ করেন, তাদের একজন খেলোয়াড় বল আনতে গেলে প্রতিপক্ষের শিক্ষার্থীরা বল সরিয়ে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং কয়েকজন খেলোয়াড়কে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

মাহমুদুল বলেন, পরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড় চেয়ার ও গাছের ডাল নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে পেছন থেকে হামলা হলে তাদের কয়েকজন আহত হন। এতে কারও মাথায় ও কারও হাতে আঘাত লাগে বলে তিনি দাবি করেন।

 

অন্যদিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুস্তাকিম হোসেনের ভাষ্য, বল মাঠের বাইরে বাগানের দিকে চলে গেলে তাদের বিভাগের এক শিক্ষার্থী সেটি আনতে যান। এ সময় কয়েকজনের পায়ে লেগে বলটি আবার পেছনের দিকে চলে যায়। এটিকে প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্টের চেষ্টা হিসেবে নেয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের দিকে ধাওয়া করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

মুস্তাকিম আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কারও হাতে আঘাত এবং কারও কপালে চোট লেগেছে বলে তিনি জানান। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচের আগে তাদের নিয়ে স্লেজিং করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি ও হামলার অভিযোগ করেছে। ফলে ঘটনার শুরু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এসব অভিযোগের তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

ইবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত কয়েকজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সবার অবস্থা মোটামুটি ভালো এবং বড় ধরনের কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর