[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে চালু হচ্ছে ক্যারিয়ার হাব

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬:৪৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ উদ্যোগের আওতায় ক্যাম্পাসে ‘ক্যারিয়ার হাব’-এর একটি অফিস স্থাপন ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। ইবির পক্ষে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং ব্র্যাকের হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের সিনিয়র ডিরেক্টর সাফি রহমান খান এতে স্বাক্ষর করেন।

 

চুক্তির আওতায় অনার্স প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। এছাড়া সিভি পর্যালোচনা, মক ইন্টারভিউ, দক্ষতা যাচাই, ক্যারিয়ার এক্সপো এবং বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এক্সপোজারের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম এবং প্রশাসন গঠিত কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোস্তফা আরিফসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের সিনিয়র ডিরেক্টর সাফি রহমান খান, ক্যারিয়ার হাবের ম্যানেজার (এমপ্লয়মেন্ট) মো. আলিউল আজীম, ব্র্যাক স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ক্যারিয়ার হাব প্রকল্পের ম্যানেজার জে. এম. সাইফুল ইসলাম, খুলনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আদিব আহসান শান্তু, ক্যারিয়ার কাউন্সেলর ফারহা রহমান এবং খুলনা হাবের অ্যাক্টিভেশন অ্যান্ড এনরোলমেন্ট ইউনিটের সাজ্জাদুল ইসলাম।

 

ব্র্যাকের ক্যারিয়ার হাব প্রকল্পের ম্যানেজার জে. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে তরুণদের বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যেও এ সমস্যা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্র্যাক ২০১২ সাল থেকে দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। পরে ২০২০ সালে তরুণদের সরাসরি কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে ‘ক্যারিয়ার হাব’ কার্যক্রম চালু করা হয়।

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাতটি সেন্টারের মাধ্যমে ৭১ হাজারের বেশি তরুণ এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কাউন্সেলিং পেয়েছেন এবং ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি তরুণ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

 

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্যারিয়ার হাব মডেলে ক্যারিয়ার সচেতনতা তৈরি, চার ধরনের অ্যাসেসমেন্ট, কাউন্সেলিং, সিভি রিভিউ ও মক ইন্টারভিউয়ের পাশাপাশি করপোরেট এক্সপোজারের সুযোগ রাখা হয়েছে। জব ফেয়ারের পাশাপাশি ক্যারিয়ার এক্সপোর মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার ও চাকরির সুযোগও তৈরি করা হবে।

 

এ ছাড়া উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহী এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক তরুণদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। অন-স্পট নিয়োগ, ফেলোশিপ, গবেষণা অনুদান ও গ্লোবাল সিটিজেনশিপের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেতরের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও পেশাগতভাবে সক্ষম মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে। উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ‘মাল্টি-সেন্সরস স্পেস’ স্থাপনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

উপাচার্য বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব মোকাবিলায় আগেভাগেই পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে ঢাকাকেন্দ্রিক জনসংখ্যার চাপ ও অভিবাসন কমাতে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

এসআর

সম্পর্কিত খবর