[email protected] সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও জটিলতার অভিযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়।

মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন করে ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বদলি স্থগিত থাকবে।

নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে আবার বদলি কার্যক্রম চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষক বদলির জন্য বর্তমানে চালু থাকা নীতিমালা বহাল থাকবে কি না, নাকি নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা হবে—তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কারণ নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর বদলি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উপবৃত্তিসহ প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত অনুযায়ী, উপবৃত্তি আরও বেশি প্রয়োজনভিত্তিক ও আর্থিক সক্ষমতার বিবেচনায় দেওয়া গেলে তা কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, মানসম্মত ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার সঙ্গে কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করার বিষয়গুলো সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

এসআর

সম্পর্কিত খবর