[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ আগষ্ট ২০২৬ ১০:৪৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে প্রতীকীভাবে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শহীদ মিয়া।

প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক।

এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

আলোচনা সভার প্রথম পর্বে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নানা বিষয় তুলে ধরেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ও অর্জন ধরে রাখতে হবে এবং আন্দোলনের সময় নিহত শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

পাশাপাশি বৈষম্য দূরীকরণ এবং কোটা-সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

একই সঙ্গে ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের উত্থাপিত ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সব ছাত্রসংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান।

তবে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি নিজেও ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। অভিযুক্তদের পুনর্বাসনের পরিবর্তে বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, জুলাই আন্দোলন সাহস, ত্যাগ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

তিনি মনে করেন, আন্দোলনের সাফল্যে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনেরও ভূমিকা ছিল।

কোনো একটি পক্ষের একক কৃতিত্ব দাবি না করে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রগতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের বিকল্প নেই।

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম এলাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

নারীদের জন্য আয়োজন করা হয় পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর