খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনার কাজ শুরু করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে শিক্ষক হিসেবে স্বাভাবিক যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠাতে থাকেন অভিযুক্ত শিক্ষক। শিক্ষার্থীর দেওয়া বিভিন্ন স্ক্রিনশটে ভালোবাসার প্রস্তাব, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের নমুনা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়মিত বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে বার্তাগুলোর ধরন তাকে বিব্রত ও মানসিকভাবে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। পরে তিনি বিষয়টি সহপাঠীদের অবহিত করেন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করতে প্রথমে দ্বিধা থাকলেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করাকে প্রয়োজনীয় মনে করেছেন তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও সামনে আসার আহ্বান জানান তিনি।
একই ডিসিপ্লিনের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অতীতেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত যোগাযোগে বা ক্লাসের বাইরের সময়ে কিছু শিক্ষার্থীকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীও অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো তিনি বন্ধ করে দেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। ডিসিপ্লিনে বিভিন্ন নিয়মকানুন কার্যকর করায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানান, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসআর