[email protected] বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্দোলনের পর অভিন্ন নীতিমালায় সম্মতি ববি শিক্ষকদের

ববি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬ ৪:৫৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত ‘অভিন্ন নীতিমালা’ ঘিরে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর নতুন মোড় এসেছে।

যে নীতিমালার বিরোধিতা করে শিক্ষকরা টানা কর্মসূচি পালন করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই নীতিমালার অধীনেই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছেন তারা।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১২৭ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পদোন্নতির বিষয়ে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতির দাবি জানিয়ে শিক্ষকরা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত থাকে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বহু শিক্ষার্থী সেশনজটের আশঙ্কায় পড়েন। নির্ধারিত বেশ কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক হতে পারে, তবে আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিক্ষার্থীরাই।

 

একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাস কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ফলে নির্ধারিত শিক্ষাসূচি পিছিয়ে যায় এবং অনেককে বিলম্বিত পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তারা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে কোনো আন্দোলন না করার আহ্বান জানান।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় তারা চাপের মধ্যে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের স্বার্থে তারা অভিন্ন নীতিমালার আওতায় এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

অন্যদিকে, নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেহেতু নীতিমালাটিকে আইনসম্মত হিসেবে বিবেচনা করছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়কেও সেটি অনুসরণ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর