রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দেশে ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চললেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থী সাহেদ আহম্মেদ তার প্রতিক্রিয়ায় ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আবু দাউদ বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তার মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমে আসবে।
তানজীমুল ইসলাম অন্তর বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো ঘটনায় দ্রুত বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা ভয় পায় না এবং সমাজে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।
মো. আল আমিন বর্তমান আইন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সময়োপযোগী ও কঠোর আইন প্রণয়ন জরুরি।
খোকন বর্মন বলেন, সমাজে আলোচিত বহু ঘটনার মতো এ ঘটনাও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আহসান হাবীব বলেন, শুধুমাত্র প্রতিবাদ বা মানববন্ধন নয়, দেশে কার্যকর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আপু মিয়া শিশু রামিসার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এমন নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
কে এম আবিদুজ্জামানও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে দৃশ্যমান বিচার প্রয়োজন।
শান্ত শীশির বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, জনগণের আস্থা ফেরাতে রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মো. ওয়াইস কুরুনী ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। অন্যদিকে সুকান্ত দাস বলেন, সমাজে ধর্ষণ ও সহিংসতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং এ বিষয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
মারুফ হাসান ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন। শাহরিয়ার রাসিদও দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পক্ষে মত দেন।
আকিব হাসান পারভেজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। সিনথিয়া সরকার বিচারহীনতার কারণে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
এস এম শামীম বলেন, বহু ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় মানুষের আস্থা কমে গেছে। দীপ কুন্ডুও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এসআর