পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর অবশেষে আন্দোলন স্থগিত করে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা।
তবে দাবির সরাসরি বাস্তবায়ন ছাড়াই আন্দোলন প্রত্যাহার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মো. মামুন অর রশিদের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষকরা ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক জানান, পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই ঈদুল আজহার ছুটিতে যাচ্ছে।
গত ২১ এপ্রিল থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা। আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এ সময়ে অন্তত ৪৬টি ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। পাশাপাশি মিডটার্ম, ভাইভা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে।
শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করছেন, দাবি পূরণ ছাড়াই আন্দোলন শেষ হওয়ায় পুরো পরিস্থিতির ভোগান্তি শেষ পর্যন্ত তাদেরই পোহাতে হয়েছে।
বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকদের দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, কিন্তু দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক বলেন, উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতি বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বলেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশাবাদী। তবে দীর্ঘসূত্রিতা হলে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পদোন্নতির বিষয়েও যৌক্তিক সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসআর