মার্কিন ডলারের বিপরীতে আবারও দুর্বল হচ্ছে বাংলাদেশি টাকা। আন্তঃব্যাংক ও বাণিজ্যিক
ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটওে। সেখানে বর্তমানে প্রতি ডলারের দর বেড়ে ১২৮ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৪ টাকা ২২ পয়সায় উঠেছে। একই দিন স্পট মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ থেকে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সায়। অথচ এর মাত্র ১৫ দিন আগেও স্পট মার্কেটে প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন ও ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রতি ডলারের বিপরীতে দিতে হচ্ছে ১২৪ টাকা ২১ পয়সা। মাসের শুরুতে এ দর ছিল ১২৩ টাকা ১১ পয়সা। অর্থাৎ, মাসের ব্যবধানে এলসি নিষ্পত্তিতেও ডলারের দাম ১ টাকা ১০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফলে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিল পরিশোধে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বাড়তি ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যা ডলারের বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণ।
ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি খোলাবাজারেও ডলারের দাম সমান তালে বেড়েছে। রাজধানীর মতিঝিলের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে ক্রেতাদের ১২৮ টাকা থেকে ১২৮ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়েছে। অন্যদিকে মানি এক্সচেঞ্জে ডলার বিক্রি করতে আসা গ্রাহকদের দেওয়া হয়েছে ১২৭ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সা। অথচ মাত্র এক মাস আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে খোলাবাজারে ডলারের দর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডলারের এই দাম বৃদ্ধির ফলে সরাসরি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আমদানিনির্ভর নিত্যপণ্যের দামে। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের প্রয়োজনে ডলার কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকেও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
এসআর