[email protected] শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

১৫ বছরে ৮০ কোটি চাকরির ঘাটতির আশঙ্কা বিশ্বব্যাংক প্রধানের

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাংক প্রধান জানান, তিন বছর আগে বিশ্বব্যাংকের নতুন পরিকল্পনা শুরুর সময় যে

 চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, বৈশ্বিক সংঘাত, উচ্চ ঋণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি এখনো প্রায় একই রকম রয়েছে।

​তিনি বলেন:

​"প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতি কেবল কোনো অর্থনৈতিক উপাত্ত নয়; এর সঙ্গে কোটি কোটি তরুণের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জড়িত। একটি কর্মসংস্থান শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি মানুষের মর্যাদার প্রতীক। আজ তরুণদের সঠিক সুযোগ সৃষ্টি না করা গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।"


​উন্নয়নের অর্থায়নে নতুন কৌশল ও মডেল

​সীমিত সম্পদ ও বিশাল কর্মসংস্থান ঘাটতি একসাথে কাটিয়ে উঠতে অজয় বাঙ্গা সরকারি তহবিল, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য উদ্যোগ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক উন্নয়ন মডেল তৈরির আহ্বান জানান।

​ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সরকারি সহায়তা: যেসব দেশে ঝুঁকি ও প্রয়োজন বেশি, সেখানে সহজ শর্তে সরকারি বা উন্নয়ন অর্থায়ন অব্যাহত থাকবে।

​বেসরকারি বিনিয়োগের অভাবনীয় সাফল্য: কাজের পরিকল্পনা শুরুর পূর্বে ২০২২ অর্থবছরে বেসরকারি খাত থেকে সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩,৫০০ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে তা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১১,২০০ কোটি (১১২ বিলিয়ন) ডলারে। বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নসহ যার মোট পরিমাণ ২৩,০০০ কোটি (২৩০ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়েছে।

​আফ্রিকায় রেকর্ড বৃদ্ধি: উন্নয়নশীল ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর পাশাপাশি আফ্রিকা অঞ্চলে বেসরকারি বিনিয়োগ সংগ্রহ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

​বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগ

​উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্র বিস্তৃত করতে বিশ্বব্যাংকসহ ছয়টি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক বিনিয়োগ মূল্যায়ন, নথিপত্র ও কাঠামোর জন্য একই ধরনের পদ্ধতি চালুর কাজ করছে। এর ফলে আজ কোনো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করলে, পরবর্তীতে অন্য যেকোনো বেসরকারি বিনিয়োগকারী সহজেই সেটির দায়িত্ব নিতে পারবেন। এতে করে ব্যাংকগুলোর মূলধন নতুন নতুন প্রকল্পে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

​নতুন প্রজন্মের উপযোগী উন্নয়ন ধারা

​অজয় বাঙ্গা স্পষ্ট জানান, বিগত প্রজন্মের উন্নয়ন মডেলকে হুবহু অনুকরণ না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যেসব স্থানে বাজারের প্রবেশ কঠিন, সেখানে সরকারি অর্থায়ন এবং যেখানে দ্রুত কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব, সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে।

​তিনি জোর দিয়ে বলেন, ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের ঘাটতির হিসাবটি কেবল একটি পূর্বাভাস; এটি পরিবর্তন করা সম্ভব। সঠিক পদক্ষেপ এবং উন্নয়নের নতুন মডেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করা সম্ভব।

এসআর

সম্পর্কিত খবর