[email protected] মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

তিন মাসে ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজারের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা গত তিন মাসে ৫ হাজারেরও বেশি বেড়েছে।

একই সময়ে এসব হিসাবে জমা অর্থ বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে হিসাবের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও এসব হিসাবে থাকা আমানতের পরিমাণ কমেছে। বিপরীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।

 

কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে জমা অর্থও বেড়েছে। মার্চ শেষে এসব হিসাবে মোট আমানত ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

 

তবে ব্যক্তি পর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। জুন শেষে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসাবে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০১টি। মার্চে এ সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি শ্রেণির কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে মাত্র ৭১টি।

 

অন্যদিকে এসব ব্যক্তিগত হিসাবে জমা অর্থ কমেছে। মার্চ শেষে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটি টাকার বেশি আমানতের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকায়। ফলে তিন মাসে ব্যক্তিপর্যায়ের কোটি টাকার আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার আমানত বৃদ্ধিতে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের অবদানই বেশি।

 

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে গতি কমেছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে না গিয়ে হাতে থাকা অর্থ ব্যাংকে রাখছে।

 

প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ কিংবা সাময়িকভাবে ব্যবহার না হওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার প্রবণতা বাড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে বড় অঙ্কের আমানত তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগ কম থাকলেও ব্যাংকে কোটি টাকার আমানত বাড়ছে।

 

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে ব্যক্তিপর্যায়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে। এ কারণে ব্যক্তি শ্রেণির কোটি টাকার হিসাবে আমানত কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, কোটি টাকার আমানত বৃদ্ধি মানেই অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বা সঞ্চয় বাড়ছে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। এসব অর্থ যদি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না হয়ে ব্যাংকেই পড়ে থাকে, তাহলে তা অর্থনীতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারে না।

এসআর

সম্পর্কিত খবর