শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী আবহ ছড়িয়ে পড়েছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায়।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ার পর থেকেই দুর্গাপূজার প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, আয়োজকেরা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত। প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করে শিল্পীরা এখন রং করা ও সাজসজ্জার কাজে মনোযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি মণ্ডপের প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলছে।
শিল্পীদের দক্ষ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা। দেবীর মুখাবয়ব, চোখ এবং অলংকারের নকশায় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। হাতে সময় কম থাকায় কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগরেরা।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, এই পেশার সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, ধর্মীয় অনুভূতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের নিয়ে তাঁরা প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা সরবরাহ করতে এবারও বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁদের।
শিল্পীদের ভাষ্য, বাঁশ, খড়, মাটি, রংসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে প্রতিমার মূল্য বাড়েনি। তারপরও বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশাকে তাঁরা গর্বের সঙ্গে ধরে রেখেছেন।
তাঁরা আরও জানান, সময়ের সঙ্গে প্রতিমার নকশা ও সাজসজ্জার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে কাপড় ও বিভিন্ন অলংকার দিয়ে প্রতিমা সাজানোর প্রচলন বেশি থাকলেও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এখন মাটির তৈরি সাজসজ্জার ব্যবহারও বাড়ছে। ভক্তদের পছন্দ ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমার নকশায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
বারহাট্টা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার শ্যামল জানান, এবার উপজেলায় মোট ৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের প্রস্তুতির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে মণ্ডপগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুলিশের টহল জোরদার করা হবে।
এদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কেনাকাটা, মণ্ডপসজ্জা ও অন্যান্য আয়োজন ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে। প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার শেষ কাজগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আনন্দে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এসআর