কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে ছুরিকাঘাতে মুনিরা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নগামী ভাইরাল সড়ক থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোভনের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এর আগে তাঁকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকে ফিরে আসার পর সম্প্রতি আবারও তাঁকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তাঁর মা-বাবা।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা শোভনকে নিতে তাঁদের বাড়িতে আসেন। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে শোভন ছুরি দিয়ে তাঁর মায়ের বুকে আঘাত করেন। বাবা বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে অভিযুক্ত বাড়ি থেকে চলে যান।
এরপর নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খলিলগঞ্জ এলাকার একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের জানান, অভিযুক্তের আচরণ ও পরিস্থিতির কারণে তাঁর কলেজশিক্ষক বড় ভাইকেও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে সমাজে মাদকের বিস্তার ও সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, অভিযুক্তকে অভিযান চালিয়ে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এসআর