[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

অসময়ে মাচায় ঝুলছে হলুদ-সবুজ তরমুজ, মাগুরায় তরুণ উদ্যোক্তার নজরকাড়া সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৩ এএম

সংগৃহীত ছবি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে দারুণ

 চমক সৃষ্টি করেছেন মো. হাসানুর রহমান নামের এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। রাস্তার ধারে বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা চমৎকার হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ পথচারীদের নজর কাড়ছে। ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য দেখতে এবং ছবি তুলতে প্রতিনিয়ত উৎসুক মানুষ তার জমিতে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।

​উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসানুর মূলত শখের বসেই ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগ নেন। মাত্র পাঁচ শতক জমিতে তিনি 'ব্লাক বেরি' ও 'ইয়োলো মেলন' নামের দুটি জাতের তরমুজ চাষ করেন। এর মধ্যে উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের 'ইয়োলো মেলন' স্থানীয়দের মাঝে বাড়তি কৌতূহল ও আকর্ষণের সৃষ্টি করেছে।

​চাষাবাদের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়, মাগুরা সদর থেকে ১,৩০০ টাকায় ২০ গ্রাম বীজ কিনে হাসানুর নিজেই চারা তৈরি করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে জমিতে চারা রোপণের পর মাত্র দেড় মাসের পরিচর্যাতেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। জমিতে বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের জাল দিয়ে মাচা তৈরি করায় লতা বেয়ে ওঠা সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলন্ত রঙিন তরমুজগুলো এক অপূর্ব শোভা বর্ধন করছে।

​হাসানুরের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরাও। এলাকার কৃষক বাবলু ও জমি জানান, আগে এভাবে এই অঞ্চলে তরমুজ চাষের দৃশ্য দেখা যায়নি। অল্প জমিতে এমন নতুন জাতের সফল চাষ দেখে তারা নিজেরাও বিকল্প ফসল চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। তবে বাণিজ্যিক প্রসার ও ভালো দাম নিশ্চিত করতে তারা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

​এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু জানান, এই এলাকায় সাধারণত তরমুজের চাষ না হলেও তরুণ উদ্যোক্তা হাসানুরের প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী এসব বৈচিত্র্যময় ফসল চাষের প্রসার ঘটলে তা এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর