পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে তীর্থস্নান, পূজার্চনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী।
মহালয়া উপলক্ষে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই মন্দিরে আসেন। তাঁদের অনেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাট হয়ে মন্দিরে পৌঁছান। শনিবার সূর্যোদয়ের পর থেকে ঘাট ও মন্দিরের আশপাশের এলাকায় পুণ্যার্থীদের আনাগোনায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বদেশ্বরী মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। মহালয়া উপলক্ষে অনেক ভক্ত প্রয়াত মা-বাবা ও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় মাথা মুণ্ডন, তর্পণ ও পবিত্র স্নান করেন। এরপর মন্দিরে পূজার্চনা ও পরিক্রমায় অংশ নেন তাঁরা।
উৎসবকে কেন্দ্র করে মাতৃপূজা, চণ্ডীপাঠ, গীতাপাঠ, ধর্মসভা, মাতৃবন্দনা ও প্রার্থনামূলক সংগীতের আয়োজন করা হয়। পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আগত ভক্তরা।
মন্দির পরিদর্শন ও পূজার্চনা শেষে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মিল রয়েছে। এ কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ ও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিন বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথে করতোয়া নদীর মাড়েয়া আউলিয়া ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ৭২ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে মহালয়া উপলক্ষে ঘাটের নিরাপত্তা ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এবারও অতীতের সেই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এসআর