[email protected] শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মহিলা মার্কেটে নারীরাই অনুপস্থিত, দোকান দখলে পুরুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭:১৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগাছায় নারীদের ব্যবসার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত তিনটি মহিলা মার্কেট এখন অনেকটাই লক্ষ্যচ্যুত।

৩০টি দোকানের বেশির ভাগেই নেই নারী উদ্যোক্তার উপস্থিতি। কোথাও পুরুষরা ব্যবসা করছেন, কোথাও দোকান ব্যবহৃত হচ্ছে পণ্য রাখার গুদাম হিসেবে।

আবার কিছু দোকান দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকলেও আদায় হচ্ছে না সরকারের প্রাপ্য ভাড়া। এতে একদিকে নারীদের ব্যবসার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের দেউতি বাজার, কান্দি ইউনিয়নের কান্দির হাট এবং ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা হাটে এসব মার্কেট নির্মাণ করা হয়। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই সরকারি অর্থে মার্কেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।

 

সরেজমিনে দেউতি মহিলা মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১২টি দোকানের মধ্যে চার-পাঁচটি পুরুষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কয়েকটি দোকানে ব্যবসার পরিবর্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখা হয়েছে। ‘সূজয় কসমেটিক স্টোর’ নামে একটি দোকান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দোকানটির বরাদ্দপ্রাপ্ত মায়া রাণীর কাছে ভাড়া বকেয়া রয়েছে।

 

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শাপলা জানান, বর্তমানে তিনি একটি জরাজীর্ণ ঘরে ব্যবসা করছেন। রাতে নিরাপত্তার কারণে দোকানেই থাকতে হয়। মহিলা মার্কেটে একটি দোকান পেলে নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারতেন বলে জানান তিনি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মার্কেটের কয়েকটি দোকান প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয়, মার্কেটের সামনের জায়গাতেও গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাট।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি সঠিকভাবে কাজে আসছে না। নীতিমালা মেনে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের হিসাবে, তিনটি মহিলা মার্কেটের ৩০টি দোকানের বিপরীতে মোট ২ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে দেউতি মহিলা মার্কেটের ১২টি দোকানে বকেয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। কান্দি মহিলা মার্কেটের আটটি দোকানে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং পাওটানা হাট মহিলা মার্কেটের ১০টি দোকানে বকেয়া রয়েছে ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।

 

উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি বলেন, বকেয়া ভাড়া আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা ভাড়া পরিশোধ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেউতি মহিলা মার্কেটের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানগুলোর বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বকেয়া ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানের বরাদ্দ বাতিল করে সেগুলো প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর