নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকের পাড়ে অবস্থিত মনোরম কাশবনে আগুন দেওয়ার
ঘটনা ঘটেছে। এতে কাশবনের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, বেদনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে লেকের পাড়ের কাশবনে আগুন জ্বলতে দেখেন দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কাশবনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাদের দ্রুত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে কাশবনের একটি বড় অংশ পুড়ে ভস্মীভূত হলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার কারণে ক্যাম্পাসের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, "দুর্বৃত্তরা কাশবনে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।"
নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, রাতের অন্ধকার থাকায় কারা আগুন দিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শরতের শুভ্রতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক এই কাশবনটি দেখতে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী ক্যাম্পাসে সমবেত হতেন। চোখের সামনে প্রকৃতির এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিনাশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফসা আক্তার মোহ বলেন, "অনেক সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ প্রতিদিন আমাদের ক্যাম্পাসে আসেন। হয়তো এটি যাদের সহ্য হয়নি, তারাই এই জঘন্য কাজ করেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়া উচিত।"
ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বিনাশকারী এই হীন কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এসআর