[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে শ্যামনগরে সুন্দরবন রক্ষার অঙ্গীকার

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের দূষণ কমানো ও বাস্তুতন্ত্রের উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সুন্দরবন ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার কমানো, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য না ফেলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্যামনগর সোনার বাংলা মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্লাস্টিক, পলিথিন ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে উপস্থাপনা করেন রূপান্তরের ট্রেনিং ফ্যাসিলিটেটর খালিদ লামি। এতে প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে মানবস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশে সৃষ্ট বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার পাশাপাশি সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর প্রাকৃতিক অঞ্চলে এর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

 

রূপান্তরের সুন্দরবন প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ভেটখালী এ. করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এবং নীলডুমুর ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই খালিদ।

 

এ ছাড়া বক্তব্য দেন রূপান্তরের ‘ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন ফোরাম’-এর আহ্বায়ক মুন্তাকিমুল ইসলাম ও বারাসিক প্রতিনিধি মারুফ হোসেন। সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজ, সিপিজি সদস্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

 

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বর্জ্য নদী, খাল, জলাশয় কিংবা বনাঞ্চলে জমে থাকলে দীর্ঘ সময় পরিবেশে থেকে যায়। এর ফলে জলজ প্রাণী, মাছ, পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং সুন্দরবনের স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রও ব্যাহত হতে পারে।

 

তারা বলেন, শুধু সরকারি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, পর্যটক, ব্যবসায়ী, জেলে, বনজীবী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে।

 

বক্তারা প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও পাত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুন্দরবনকে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এসআর

সম্পর্কিত খবর