[email protected] মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু হত্যার অভিযোগে দিনাজপুরে মহাসড়ক অবরোধ

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬:৫৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।

এ সময় অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল ও সাইকেল মহাসড়কে এনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের জামতলী বাজার অংশে এ অবরোধ চলে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

খবর পেয়ে দিনাজপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে যান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস আগে জামতলী বাজারসংলগ্ন নশিপুর-খোশালপুর এলাকার এক সন্তানের জননী জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে জিন্নাতুন তার চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

 

জিন্নাতুনের স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে শিশু রুহিকে হত্যা করে কোথাও মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন রিপন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় জিন্নাতুনকে মারধর, হাত-পা বেঁধে রাখা এবং ঘরে আটকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় সাত দিন আগে সুযোগ বুঝে জিন্নাতুন রিপনের বাড়ি থেকে বের হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি পরিবারের কাছে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কথা জানান এবং মেয়েকে হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।

 

এর মধ্যে শনিবার রাতে ছুরি দেখিয়ে জিন্নাতুনকে তার বাবার বাড়ি থেকে রিপন জোর করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়।

 

রোববার সকালে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ জামতলী বাজারে জড়ো হয়ে রিপন টুডুকে গ্রেপ্তার এবং শিশু রুহির সন্ধানের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন রিপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র মহাসড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, শিশু রুহিকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে কোতওয়ালি থানায় একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মামলা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে জিন্নাতুনকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

 

জিন্নাতুনের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে রিপন টুডু সম্পর্কের সূত্রে তার ভাতিজিকে নিয়ে যান। সাত দিন আগে জিন্নাতুন ফিরে এসে নির্যাতনের পাশাপাশি মেয়েকে হত্যা ও মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তারা সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। শনিবার জিন্নাতুনকে আবারও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

 

দিনাজপুর কোতওয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ নুরনবী বলেন, উত্তেজিত লোকজন রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন এবং কিছু মালামালে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

 

এদিকে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপন টুডুকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

 

পরে তিনি জিন্নাতুনের বাবার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জিন্নাতুনকে উদ্ধারের পাশাপাশি শিশু রুহির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর