সস্তা ও সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প এবং
এর সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে। জেলার দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতে তৈরি হাতপাখা, কুলা, ডালি, ঝুড়ি এবং মাছ ও কাঁকড়া ধরার সরঞ্জামের চাহিদা কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের এই পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁশের চড়া মূল্য (প্রতিটি ১৫০-২০০ টাকা) ও পরিশ্রমের তুলনায় পণ্যের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় দৈনিক আয় দিয়ে সংসার চালানো ও সন্তানদের পড়াশোনা করানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক কারিগর সমিতি ও এনজিও-র ঋণের জালে আটকে পড়ছেন এবং জীবিকার তাগিয়ে বাধ্য হয়ে বাঁশশিল্প ছেড়ে ভ্যান চালানোসহ অন্যান্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। আগামী প্রজন্মও স্বল্প লাভের কারণে এই শ্রমঘন পেশায় আসতে অনাগ্রহী।
কারিগর ও বিক্রেতাদের মতে, সরকারি সহায়তা এবং সুদমুক্ত বা স্বল্প সুদের ঋণ ছাড়া এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সাতক্ষীরা বিসিক-এর পক্ষ থেকে কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থার কথা বলা হলেও সরকারি চাকরিজীবী জামিনদারের শর্তের কারণে অনেকেই ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে 'একটি পণ্য, একটি গ্রাম' প্রকল্পের আওতায় এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা ভাবছে বিসিক। প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও বাঁশজাত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করা না গেলে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এ কুটিরশিল্পটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর