রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আর্কিটেকচার বিভাগের ২৫ সিরিজের
শিক্ষার্থী মাইশা মোর্শেদ কথা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিজের পছন্দের বিষয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি বিভাগের তথাকথিত ‘চেইন সিস্টেম’, মানসিক হয়রানি, জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অতিরিক্ত একাডেমিক চাপের বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
মাইশার দাবি অনুযায়ী, বিভাগে প্রচলিত ‘চেইন সিস্টেম’ বা ‘আমলা-কামলা’ প্রথার কারণে তাকে নানা সময় কটূক্তি, অবহেলা ও অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পাশাপাশি, একাডেমিক কাজের জন্য রাতে চেইনের অন্য সদস্যদের বাসায় অবস্থান করা বা ‘নাইট স্টে’ করার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা পরিবারের কাছে নিরাপদ মনে না হওয়ায় তাঁর ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং দীর্ঘ সময় ক্লাসের কারণে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভোগেন। এছাড়া, অন্যায়ভাবে একটি বিষয়ের দায় চাপিয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা ও সামাজিকভাবে বয়কট করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সিনিয়রদের কাছ থেকে কোনো সমর্থন পাননি।
তবে রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আরিফ আহম্মদ চৌধুরী জানান, মাইশার কাছ থেকে পাওয়া লিখিত আবেদনে তিনি রাজশাহীর আবহাওয়াগত সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ছুটি চেয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীর কোনো অভিযোগ নেই এবং র্যাগিং সম্পর্কিত কোনো লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়নি।
নিজের পোস্টে মাইশা অবশ্য পরিষ্কার করেছেন যে রুয়েটের প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই; তবে নিজের মানসিক শান্তি, সুস্থতা ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই বিদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
এসআর