রাজবাড়ী জেলায় কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র গরমের মাঝেই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম
ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ১ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো জেলার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন ও রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা।
রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, আর দিনে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও সেচনির্ভর কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জেনারেটর ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন, আর ঠিকমতো সেচ দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ উল্লেখ করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পরীক্ষার্থী সাদিয়া জামান ও গৃহবধূ মীম চৌধুরী জানান, রাতে তীব্র গরমে পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ছোট শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী আকরাম অভিযোগ করেন, ১ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানপাটে কাজ না হওয়ায় অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন।
রাজবাড়ী ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির আওতায় জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। দিনে ৩৯ থেকে ৪০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে ৪৬ মেগাওয়াট হলেও মিলছে ৩৯ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি প্রসঙ্গে রাজবাড়ী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন-অর-রশিদ জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাভিত্তিক ১ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
এসআর