[email protected] শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

নোয়াখালীতে মহাসমাবেশ, হিজবুত তাহহীদ নিষিদ্ধের দাবি

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ আগষ্ট ২০২৬ ৮:৫৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত এক ইসলামী মহাসমাবেশ থেকে ‘হিজবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমাবেশে অংশ নেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর এবং ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, ‘হিজবুত তাওহীদ’ ধর্মীয় কার্যক্রমের আড়ালে বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশের দুই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।

এ সময় বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমসহ বিভিন্ন আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

এছাড়া নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তারা সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে রয়েছে হিজবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা, সংগঠনটির প্রকাশনা ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করা, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন তদন্ত করা।

পাশাপাশি সংগঠনটির বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রম নিয়ে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর