টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় খান ফিলিং স্টেশনের উত্তর পাশে একটি রেস্তোরাঁর সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা দুই দিনের ছুটির কারণে মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ ছিল বেশি।
এ সময় ঢাকা থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জগামী ক্রাউন ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস রক্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
ঘটনাস্থলেই নিহত হন সেতু আক্তার (২২), তাজবীর (৮) এবং প্রায় ৪৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।
আহতদের মধ্যে তাজবীরের বাবা পথিক, মাদারগঞ্জের শামীম ও জিয়াউল, মেলান্দহের আনোয়ার, মধুপুরের আবু নাঈম, হনুফাসহ আরও অনেকে রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহতদের মধুপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক এবং মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বোরহান আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজন সংকটাপন্ন থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
পাশাপাশি আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিকে পালিয়ে যাওয়া ট্রাক ও এর চালককে শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত ও নিহতদের স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে।
স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল চত্বরজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এসআর