বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি
দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নদীভাঙনে একটি কৃষক পরিবারের বসতভিটাসহ আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন পরিস্থিতি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে ধেয়ে আসায় নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে ধুনট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টায় যমুনার পানি ১৫.৫৭ মিটার সমতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদীতে পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, যমুনা নদীতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হওয়ায় তীরের মাটি ও বালু ধসে পড়ছে। এতে একের পর এক ফসলি জমি, গাছপালা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ধুনটের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চোখের সামনেই তাদের আবাদি জমি ও বসতভিটা নদী কেড়ে নিচ্ছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা জানান, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শহড়াবাড়ি গ্রামটি একসময় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটিও চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক জানান, উজানের পানির চাপ বাড়ায় নদী তীরবর্তী কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ক্ষতি এড়াতে পাউবোর পক্ষ থেকে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চালানো হচ্ছে।
এসআর