[email protected] রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভালুকায় রাম্বুটান ও লংগান চাষে দুই তরুণের ভাগ্য বদল: বাণিজ্যিকভাবে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ৯:১২ এএম

সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার গোয়ারী গ্রামে রাম্বুটান ও লংগানের মতো বিদেশি ফল চাষ করে

 তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দুই উদ্যোক্তা শেখ মামুন ও আশরাফ শুভ। কয়েক বছর আগে আম, পেয়ারা বা বরই চাষ করে লোকসানের মুখে পড়ার পর, ২০২০ সালের শেষের দিকে তারা থাইল্যান্ড থেকে চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে এই দুই ফলের চাষ শুরু করেন।

বর্তমানে তাদের ২০ বিঘা জমির বাগানে ৩৫০টি পরিণত রাম্বুটান গাছসহ বিভিন্ন জাতের লংগান, থাই কাটিমন আম ও পেঁপের সমাহার রয়েছে। ফুল আসার সময় টানা বৃষ্টির কারণে আশানুরূপ ফলন না হলেও, গত বছরের ৫৫-৬০ লাখ টাকার তুলনায় এবার ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার রাম্বুটান বিক্রি হবে বলে আশা করছেন শেখ মামুন। বাগান থেকেই প্রতি কেজি রাম্বুটান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

​বাগানের অন্য একটি আকর্ষণ হলো লংগান বা কাঠলিচু। এখানে ফোর সিজন, কোহালা, রুবি, হোয়াইট, পিংপং ও ডায়মন্ড রিভারসহ বিভিন্ন জাতের লংগান চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কোন জাতের ফলন ও স্বাদ সবচেয়ে ভালো, তা নিয়ে কাজ করছেন উদ্যোক্তারা। এবার প্রতি কেজি লংগান ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে এবং বিভিন্ন আড়ত ও সুপারশপের প্রতিনিধিরা বাগান থেকেই সরাসরি ফল সংগ্রহ করছেন। উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ জানান, ফল পাকার সময় পাখিদের উপদ্রব থাকলেও তারা গাছে জাল না দিয়ে প্রকৃতির অংশ হিসেবে পাখিদের জন্য কিছু ফল রেখে দেন।

​সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে এই বাগানের ভিডিও দেখে প্রতিদিন গাজীপুর, মুক্তাগাছাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বাগান দেখতে এবং চারা সংগ্রহ করতে আসছেন। এটি এখন একটি সফল কৃষি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর জাহান জানান, রাম্বুটান ও লংগান বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ রাম্বুটানের মোটা খোসার কারণে এটি দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা যায় এবং লংগানও কম পরিচর্যায় ভালো ফলন দেয়। সঠিক পরিকল্পনা ও সাহসের মাধ্যমে দেশেই উচ্চমূল্যের এই বিদেশি ফলগুলোর বাণিজ্যিক চাষের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর