পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তরুণ মেধাবী মো. হাসান মিয়া একের পর এক বিসিএসে সফল হয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
হাসানের বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নে। তিনি মো. ছগির আকনের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ২০১৩ সালে সাপলেজা মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্সে প্রথম এবং মাস্টার্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ফলধারীদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম।
বিসিএসের বাইরে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাতেও তিনি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত মোট নয়টি সরকারি চাকরিতে সুপারিশ পেয়েছেন। এর আগে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে নির্বাচিত হন।
হাসান জানান, শুরুতে তার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে পড়াশোনায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন। তবে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরে বিসিএসকে ক্যারিয়ারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।
২০২২ সালের শেষ দিকে মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি পুরোপুরি বিসিএস প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য আরও নিবিড়ভাবে প্রস্তুতি নেন।
প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশালে থাকাকালে একাধিক টিউশনি করাতেন। শিক্ষার্থীদের পড়ানোর মাধ্যমে নিজের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানও আরও শক্তিশালী হয়েছে, যা বিসিএস প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চাকরিতে যোগ দিলেও বিসিএস প্রস্তুতির সুবিধার্থে কয়েক মাস পরই সেই চাকরি ছেড়ে দেন। পরে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখানে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
তিনি জানান, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দিতে যাওয়ার দিনই ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয় এবং প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর পান। এরপরও নতুন উদ্যমে বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেন। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এবার পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন।
নিজের সাফল্যের পেছনে তিনি তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন— মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, একাডেমিক পড়াশোনায় আন্তরিকতা এবং নিয়মিত টিউশনি করানোর মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি।
হাসান জানান, বিসিএস প্রস্তুতির জন্য তিনি কঠোর সময়সূচি অনুসরণ করেননি। চাকরি ও টিউশনের ফাঁকে যতটুকু সময় পেয়েছেন, তা কাজে লাগিয়েছেন। ক্লান্তি দূর করতে হাঁটাহাঁটি, চা পান এবং নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে নিজেকে সতেজ রাখতেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে চান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসআর