আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে গাজীপুরের বিভিন্ন খামারে চলছে কোরবানির পশু প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
গাজীপুর মহানগরের জোলারপাড় এলাকার খামারি নাছিমুল ইসলামের খামারে লালন-পালন করা হচ্ছে ফ্রিজিয়ান জাতের ‘সুলতান’ নামের একটি বড় আকৃতির ষাঁড়। খামারির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছর বয়সী গরুটির ওজন প্রায় ১১০০ কেজির কাছাকাছি।
তিনি জানান, জন্মের পর থেকেই বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে ‘সুলতান’-কে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে খৈল, ভুসি, সয়ামিল, তিলের খৈল, সবুজ ঘাসসহ নানা পুষ্টিকর খাবার। ছোটবেলা থেকেই গরুটি গুড় খেতে পছন্দ করে বলেও জানান তিনি।
বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাবের কারণে এলাকাজুড়ে ‘সুলতান’ এখন বেশ পরিচিত। প্রতিদিন অনেক মানুষ শুধু গরুটিকে দেখতে খামারে আসছেন।
অন্যদিকে, গাজীপুরের বিশ্বাস এগ্রো খামারের আরেক আকর্ষণ ‘কালাপাহাড়’। বিশাল আকারের কারণে এমন নাম দেওয়া হয়েছে গরুটির। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় চার বছর ধরে পরিচর্যায় থাকা এই গরুটির ওজন প্রায় ২৫ মণের কাছাকাছি।
খামার সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদ উপলক্ষে তাদের খামারে প্রায় ১৬০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট আকৃতির গরুর পাশাপাশি এক হাজার কেজির বেশি ওজনের গরুও রয়েছে।
খামার মালিকদের দাবি, কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে পশুগুলো মোটাতাজা করা হয়েছে। খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টা, গম, খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি ও সয়াবিনজাত খাবার।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর–এর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি এলাকায় কোরবানির জন্য এক লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা পশু দিয়েও চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খামারিরা জানান, অনেক ক্রেতা আগেভাগেই খামারে এসে পছন্দের পশু নির্ধারণ করে রাখছেন। পরে ঈদের আগ মুহূর্তে সেই পশু ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এবার বড় আকৃতির গরুকে ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় ভালো বিক্রির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খামারিরা।
এসআর