দুর্গাপূজার টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার।
১৪ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটির আগেই কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছিল।
হোটেল-মোটেল মালিকদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিভিন্ন শ্রেণির ৫০০টির বেশি হোটেল, মোটেল ও কটেজ রয়েছে। ছুটির সময় প্রতিদিন এক লাখের বেশি পর্যটক আসতে পারেন বলেও প্রত্যাশা করা হয়েছে।
পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করেছে বলে বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছুটিতে যাত্রার আগে যাত্রীদের টিকিট, ট্রেনের সময়সূচি ও আসনপ্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
এ ছাড়া হিমছড়ি, ইনানী সৈকত ও মেরিন ড্রাইভ ঘিরেও পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে।
সময় ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে এসব স্থান ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটনবিষয়ক তালিকায় মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়ার বাতিঘর এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের মতো গন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। তবে দ্বীপ ও দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার আগে নৌযান চলাচল, আবহাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।
ছুটির সময় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় এবং লাইফগার্ডদের সতর্ক অবস্থানের কথা জানানো হয়।
ভাটার সময় সতর্কতামূলক লাল পতাকাও উত্তোলন করা হয়েছিল।
এদিকে, ১৭ অক্টোবর ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্ব সামনে এনেছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তাধীন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পর্যটকদের আবাসন নির্বাচনের সময় জরুরি বহির্গমনপথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বাসসের আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ আয়োজনের লক্ষ্য কক্সবাজারকে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা এবং বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা।
পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসার জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পর্যটন মৌসুমের সফলতা নির্ভর করবে নিরাপত্তা, সেবার মান, ন্যায্য মূল্য এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও।
এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সৈকতে নামার আগে পর্যটকদের আবহাওয়া ও সমুদ্রের অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
কোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
এসআর