বাংলাদেশে বায়ুদূষণ এখন শুধু পরিবেশগত নয়, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।
এ তথ্য উঠে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিটের এক গবেষণায়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Pollution সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল এই ছয়টি বড় শহরের পিএম২.৫ দূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এসব শহরে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন এ দূষণের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হৃদরোগ।
এ কারণে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে প্রায় ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে।
শহরভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জনের অকালমৃত্যুর সঙ্গে পিএম২.৫ দূষণের সম্পর্ক রয়েছে।
এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।
২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণে গবেষকরা দেখেছেন, ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু ঘটছে, যা নগরীর বায়ুমানের অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এটি একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বায়ুর গুণগত মান সংক্রান্ত নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অকালমৃত্যু এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এজন্য পিএম২.৫ নির্গমন কমানো, শিল্প ও যানবাহন থেকে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নগর এলাকায় সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা।
এসআর