[email protected] রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অনলাইন বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা, তালিকায় রয়েছে স্পেন-ব্রাজিলও

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫১ এএম

সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও অনলাইনে ঘৃণা ছড়ানোর প্রবণতা দিন দিন

 বাড়ছে। বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসর যত এগিয়েছে, টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে অনলাইন বিদ্বেষ ও হয়রানিমূলক বার্তার সংখ্যাও তত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিফার একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নেতিবাচক আচরণের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

​বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস)। গত ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকে প্রকাশিত ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, আর্জেন্টিনার পর সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে যথাক্রমে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ঘিরে চলা সমালোচনার একটি বড় অংশে রেফারির কাছ থেকে দলটির অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশি-বিদ্বেষ বা জেনোফোবিয়াও কাজ করেছে। ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের আক্রমণের তালিকায় ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের ঠিক পরেই চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।

​খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে হওয়া বৈষম্যমূলক আক্রমণের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে ছিল বর্ণবাদ। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কয়েকজন খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য বেশি ছড়ানো হয়েছে। ফিফার তথ্যানুযায়ী, নজরদারিতে থাকা ১ হাজার ৬০৬ জন খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তার মধ্যে অর্ধেکের বেশি (৮১২ জন) অনলাইনে অপব্যবহার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। সব ধরনের বৈষম্যমূলক বার্তার প্রায় ১২ শতাংশই ছিল বর্ণবাদী।

​টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি অনলাইন হয়রানির শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখলেও ফিফা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বর্ণবাদ, সমকামিতাবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ এবং ট্রান্সজেন্ডার-বিদ্বেষসহ নানা ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন এবং তাকে নিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি আপত্তিকর পোস্ট করা হয়। এছাড়া অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে সাধারণ ধরনের অনলাইন আক্রমণের ক্ষেত্রে ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকা এগিয়ে রয়েছে।

​সবচেয়ে গুরুতর হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের চেষ্টা বা ‘ডক্সিং’-এর শিকার হয়েছেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর ভিত্তিহীন সন্দেহের জের ধরেই রেফারিদের প্রধানত টার্গেট করা হয়েছিল। এই সার্বিক পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় ফিফার এসএমপিএস মডারেশন ব্যবস্থা কোটি কোটি মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করে লাখ লাখ স্প্যাম ও আপত্তিকর কমেন্ট আড়াল করেছে এবং অপরাধী অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর