[email protected] মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

এশিয়ান গেমসে ‘কর্মকর্তা নয়, কোচই যাবেন’ : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ আগষ্ট ২০২৬ ১০:২০ পিএম

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে ফেডারেশনগুলোর প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মতবিনিময় সভায় ফেডারেশন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কোচের ভূমিকা নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে নিয়মিত কোচদেরই আন্তর্জাতিক আসরে দলের সঙ্গে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। এবারের আসরে বাংলাদেশ ২২টি খেলায় অংশ নেবে। এই আয়োজন সামনে রেখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ২২টি খেলার ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

সভায় এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও দল গঠনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তা ও কোচদের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ফেডারেশন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের যাঁরা ফেডারেশনের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক আছেন, হয়তো-বা আপনারা সাবেক ক্রীড়াবিদ। কিন্তু আমি কখনোই চাই না, আপনারা কোনো ক্রীড়াবিদ কিংবা কোচ হয়ে দলের সঙ্গে বিদেশ সফরে যান।’

একটি দলের সঙ্গে সারা বছর যিনি কোচ হিসেবে কাজ করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁকেই দলের সঙ্গে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সারা বছর একজন কোচ দলকে অনুশীলন করানোর পর গুরুত্বপূর্ণ গেমস বা বিদেশ সফরের সময় তাঁকে বাদ দিয়ে কোনো ফেডারেশন কর্মকর্তা কোচের ভূমিকায় চলে গেলে প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। অতীতের এমন অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চান না তিনি।

এ সময় শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকে লক্ষ্য না বানিয়ে পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশনা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সেরা পারফরমারদের এশিয়ান গেমসের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো যোগ্য খেলোয়াড় যেন অযথা বাদ না পড়েন, দল নির্বাচনে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ফেডারেশনগুলোর বিদেশ সফরে কর্মকর্তাদের আধিক্য নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান বিচ গেমস, এশিয়ান ইয়ুথ গেমস ও ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশের মোট প্রতিনিধি ছিলেন ২৪৮ জন। এর মধ্যে খেলোয়াড় ছিলেন ১৪২ জন, কোচ ১৭ জন এবং ফিজিও ও টিম ডাক্তার ছিলেন ৫ জন। বিপরীতে কর্মকর্তা ছিলেন ৮৪ জন। অর্থাৎ খেলোয়াড়দের তুলনায় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষাপটেই বিদেশ সফরে প্রতিনিধিদল গঠনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকদের অগ্রাধিকার।

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে আয়োজিত এবারের সভায় নতুন করে গঠিত ২৭টি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ফুটবল ও ক্রিকেট ফেডারেশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত সপ্তাহেও ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সভা করেছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী; সেখানে নতুন কমিটিগুলোর প্রতি নির্দেশনা ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বার্তা স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক আসরে শুধু অংশগ্রহণের জন্য দল পাঠানো নয়, সেরা প্রস্তুতি ও যোগ্য খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সারা বছর দলের সঙ্গে কাজ করা কোচদেরই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দায়িত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য একটাই—এশিয়ান গেমস থেকে সাফল্য ও পদক নিয়ে ফেরা।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর