[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তাইজুল ঝড়ে পাকিস্তান বিধ্বস্ত, বাংলাওয়াস করে সিরিজ জিতল টাইগাররা

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬ ৩:২৬ পিএম

পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে ৭৮ রানের দাপুটে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলে নতুন ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় অধ্যায়ের জন্ম হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। শেষ টেস্টে ৭৮ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

শেষ দিনের শুরুতে যদিও কিছুটা শঙ্কা জেগেছিল বাংলাদেশের শিবিরে। পাকিস্তানের হাতে তখনও ছিল তিন উইকেট, প্রয়োজন ১২১ রান। উইকেটে সেট হয়ে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। ধীরে ধীরে ম্যাচ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে কি না—সেই ভয়ও উঁকি দিচ্ছিল সমর্থকদের মনে।

সকাল থেকেই সিলেটের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। থেমে থেমে বৃষ্টিও হয়েছে। যার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে শুরু হয় খেলা। তবে আবহাওয়ার চেয়ে বেশি ভারী হয়ে উঠেছিল মাঠের উত্তেজনা।

দিনের শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার বলে গালিতে রিজওয়ানের ক্যাচ প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু অল্পের জন্য সুযোগ হাতছাড়া হয়। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে দুশ্চিন্তা। একের পর এক বল ব্যাটের পাশ ঘেঁষে গেলেও মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত উইকেট। রিজওয়ান ও সাজিদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে থাকেন। কখনো দারুণ ড্রাইভ, কখনো পুল শটে তারা চাপ সরিয়ে নিচ্ছিলেন নিজেদের দিক থেকে।

ধীরে ধীরে জয়ের ব্যবধানও কমে আসছিল। ১০০ থেকে ৯০, এরপর ৮০ রানের নিচে নেমে যায় পাকিস্তানের লক্ষ্য। বাংলাদেশের বোলারদের সর্বোচ্চ চেষ্টাও তখন কাজে আসছিল না। অধিনায়ক শান্ত বারবার বোলিং পরিবর্তন করেছেন, ফিল্ডিং সাজিয়েছেন নতুনভাবে, কিন্তু ভাঙছিল না জুটি।

ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় পানি পানের বিরতি। বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন বাংলাদেশের স্পিন জাদুকর তাইজুল ইসলাম। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ২৮ রান করে ফেরেন সাজিদ খান। ৫৪ রানের জুটি ভাঙতেই যেন ধসে পড়ে পাকিস্তানের পুরো ইনিংস।

সাজিদের বিদায়ের পর শরিফুল ইসলাম আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন ৯৪ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকা রিজওয়ানের বিদায়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। এরপর শেষ উইকেটটিও তুলে নেন তাইজুল ইসলাম।

অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ১৩ বলের মধ্যে কোনো রান যোগ না করেই শেষ তিন উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

বাংলাদেশের জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তাইজুল ইসলাম। আগের দিন চার উইকেট নেওয়ার পর শেষ দিনে আরও দুই শিকার যোগ করে ইনিংসে নেন ৬ উইকেট। পুরো ম্যাচে তার শিকার ৯টি উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার স্পিনেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে পাকিস্তান।

তবে এই জয় শুধু তাইজুলের একার নয়। পুরো সিরিজজুড়েই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ছিলেন লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিম। বোলিংয়ে ধারাবাহিক ছিলেন তাসকিন, শরিফুল, নাহিদ রানা ও মিরাজও।

বিশেষ করে এবারের সিরিজ জয়কে আরও বড় করে দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। কারণ দুই টেস্টেই টস হেরে সবুজ উইকেটে আগে ব্যাট করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কঠিন কন্ডিশনেও আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলে পাকিস্তানকে পরাস্ত করেছে টাইগাররা।

২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর এবার নিজেদের ঘরের মাঠেও একই ব্যবধানে হারাল শান্তর দল। ফলে টানা দুই সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার বিরল কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের উদযাপনেও ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। খুব বেশি উচ্ছ্বাস নয়, বরং শান্ত এক উদযাপন—যেন পাকিস্তানকে হারানো এখন আর অস্বাভাবিক কিছু নয় টাইগারদের জন্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮, বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৯০, পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২, পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩৫৮

ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী, সিরিজ: বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী, ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম, ম্যান অব দ্য সিরিজ: তাইজুল ইসলাম

 
 

এসআর

সম্পর্কিত খবর