বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, মাঠে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো বার্তা প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ।
এ কারণে ঘটনাটি শৃঙ্খলাবিধির আওতায় পর্যালোচনা করছে সংস্থাটির স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
ফিফা জানিয়েছে, ম্যাচ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক মূল্যায়নের পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তদন্ত শেষে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় অতীতে সাধারণত আর্থিক জরিমানাই বেশি দেখা গেছে।
জরিমানার পরিমাণ কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে, ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বলেন, এটি তাদের দেশের মানুষের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে।
দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক বার্তা এড়িয়ে চলা উচিত এবং এ বিষয়ে ফিফার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি অনেক আর্জেন্টাইনের জাতীয় অনুভূতির প্রতিফলন।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এ ঘটনায় জরিমানার মতো শাস্তি হতে পারে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ—যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত—নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু দশকের। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
বর্তমানে অঞ্চলটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এখনো এর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।
সব বিতর্কের মধ্যেই আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
এসআর