[email protected] বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
৮ মাঘ ১৪৩২

নিরাপত্তা বিবেচনায় অনফিল্ড নয়, কাচের ঘরেই দায়িত্ব পালন করলেন সৈকত?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:২২ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই।

সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে এই অবস্থার মধ্যেই আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য হিসেবে ভারত–নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।


তবে সিরিজজুড়ে তাকে দেখা গেছে ভিন্ন এক ভূমিকায়। তিন ম্যাচের কোনোটিেই তিনি অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন না; বরং প্রতিটি ম্যাচেই দায়িত্ব পালন করেছেন টেলিভিশন আম্পায়ার হিসেবে, কাচের ঘরের ভেতর থেকে। ক্রিকেট অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই কাকতাল, নাকি এর পেছনে রয়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণ?


ভারত সফরের আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১১৮টি ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন সৈকত। এর মধ্যে ৭২ ম্যাচে তিনি ছিলেন মাঠের দায়িত্বে, আর ৪৬ ম্যাচে ছিলেন টিভি আম্পায়ার। অথচ ভারত–নিউজিল্যান্ড সিরিজের তিনটি ম্যাচেই তাকে শুধু টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা যায়, যা স্বাভাবিক রোটেশনের সঙ্গে মিলছে না।


আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজে দুইজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার থাকেন। সাধারণত তারা ম্যাচভেদে অনফিল্ড ও টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব ভাগ করে নেন। বিশেষ করে তিন ম্যাচের সিরিজে একজন এলিট প্যানেলের আম্পায়ার অন্তত একটি ম্যাচে মাঠে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।


কিন্তু সদ্য সমাপ্ত ভারত–নিউজিল্যান্ড সিরিজে সেই চিত্র দেখা যায়নি। এই সিরিজে নিরপেক্ষ এলিট প্যানেল আম্পায়ার ছিলেন বাংলাদেশের সৈকত ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ। তিন ম্যাচেই অনফিল্ডে ছিলেন ইলিংওর্থ, আর সৈকত পুরো সিরিজ কাটিয়েছেন টিভি আম্পায়ারের চেয়ারে। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা আসেনি।


নিরাপত্তা ইস্যুকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক। কারণ কিউইদের বিপক্ষে সিরিজে ভারত তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে খেলেছে—ভদোদরা, রাজকোট ও ইনদোর। এত ভিন্ন ভেন্যু হওয়া সত্ত্বেও একবারের জন্যও মাঠে নামানো হয়নি সৈকতকে।


বাংলাদেশি হওয়ায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই কি এই সিদ্ধান্ত—সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেট মহলে। বিশেষ করে, একই কারণে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতের বাইরে বিকল্প ভেন্যুর দাবি জানিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি। যদিও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি নেই। বরং বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে চাপ অব্যাহত রেখেছে আইসিসি।


সব মিলিয়ে, সৈকতকে পুরো সিরিজে কাচের ঘরে সীমাবদ্ধ রাখার ঘটনাটি নতুন করে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইস্যু এবং বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর