২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন ইউনিট।
জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা ও ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এই কার্যক্রমের একটি ঘটনা ঢাকা ক্যাপিটালসের আফগান ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে জানা গেছে। এমনকি টুর্নামেন্ট চলাকালেই বাংলাদেশ ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।
বিপিএলে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ২০ রানে হারে ঢাকা ক্যাপিটালস। ওই ম্যাচে গুরবাজ খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। ম্যাচের পরদিন সকালে কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের কর্মকর্তারা তার হোটেল কক্ষে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিয়ে গুরবাজ ও ঢাকা ক্যাপিটালস ম্যানেজমেন্ট—কাউকেই আগে থেকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই আকস্মিক ঘটনাকে ভালোভাবে নেননি গুরবাজ। পরে তিনি দলের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদের কাছে নিজের অসন্তোষের কথা জানান এবং টুর্নামেন্ট ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ঢাকা ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ তাকে বোঝাতে সক্ষম হয় এবং তিনি দলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি জানান, গুরবাজের চলে যাওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় এসেছিল এবং এ বিষয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকেও কিছু নির্দেশনা ছিল। তবে আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়েছে।
মিঠুন আরও বলেন, হঠাৎ করে হোটেল কক্ষে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি গুরবাজকে বিরক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত খেলা এই ব্যাটার আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন এবং তার একটি অবস্থান রয়েছে। ফলে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন।
ঢাকার অধিনায়ক মনে করেন, গুরবাজের এই মানসিক চাপ দলের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড় মানসিকভাবে স্বস্তিতে না থাকলে সেটার প্রভাব দলের ওপর পড়ে। গুরবাজকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন—তা অনেকটাই তার ব্যক্তিগত বিষয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: